স্বপ্নভূমি ডেস্ক: বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জনগণের অপ্রতিরোধ্য জাগরণের পটভূমিতে নতুন এক ঘোষণাপত্র প্রকাশ পেয়েছে। এতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে তুলে ধরা হয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হলেও, স্বাধীনতা-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়। ১৯৭৫ সালে বাকশালের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা এতে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়।
প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশে “ফ্যাসিবাদী শাসন” কায়েম হয়েছে, যেখানে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের অধিকার হরণ, দুর্নীতি ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষভাবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে “প্রহসন” আখ্যা দিয়ে এতে অভিযোগ করা হয়, জনগণকে ভোট ও প্রতিনিধিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা ও শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে, ছাত্র ও তরুণদের উপর দমন-পীড়নের বিষয়টিও তীব্র ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, এসবের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলন দেশজুড়ে গণবিক্ষোভে রূপ নেয় এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তা এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
ঘোষণাপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকামুখী লংমার্চ এবং গণভবন ঘেরাও কর্মসূচির মুখে “শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগে বাধ্য হন”। এর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় ঘটে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
ঘোষণাপত্রে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও রাষ্ট্রপুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জনগণের সার্বিক অংশগ্রহণ ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এ আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।